প্রথমেই বলে রাখি আমি মার্কেটার না এবং আমি গিগ মার্কেটিং করি না। মাঝে মাঝে টুইটারে গিগ শেয়ার দেই। আর পরীক্ষা মূলক ভাবে একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম গিগ মার্কেটিং করার। কিছু ক্লিক ভিউ আসলেও ফলাফল ছিল শূন্য। বরং গিগের রাঙ্কিং আরও পিছিয়েছিল। ফলে গিগ মারকেটিং বিষয়টাকে বাদ দিয়েছি। কোন এক লেখায় বলেছিলাম যে এক পরিসংখ্যানে জেনেছিলাম Fiverr এর মোট অর্ডারের ৯০% Fiverr সার্চ এবং তাদের নিজেদের মারকেটিং থেকেই আসে। মাত্র ১০% সেল আসে আমাদের সোশ্যাল মারকেটিং থেকে। এটা জানার পর থেকেই গিগ মারকেটীং বাদ দিয়েছি।
এখন প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে কেন এই পোস্ট করছি। আলে কিছু তিক্ত বাস্তবতা বলার জন্য এই পোস্ট। নিচের স্ক্রিনসট লক্ষ্য করুন। এই Fiverr সেলার টুইটারে তার গিগ মারকেটীং করছে। এই বছরের শুরুর দিকে খোলা এই প্রফাইলে এই পর্যন্ত সে টুইট করেছে ৮ হাজার বারের উপরে
সব নিজের গিগের লিঙ্ক। সে ১৭২০ জনকে ফলো করে। এর বেশির ভাগই সে যে রিলেটেড কাজ করে সেই রিলেটেড কেউ না। তার ফলোয়ার মাত্র ৫৮৬ জন এবং বেশির ভাগ তার কাজ রিলেটেড না। সে লাইক দিয়েছে ১০ হাজারের উপরে। কেন দিয়েছে সে হয়ত নিজেও জানে না 
এখন ফলাফল কি সেটা বলি, সে কাজ কাম বাদ দিয়ে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা তার গিগের লিঙ্ক শেয়ার দিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল কি হচ্ছে সেটা সে নিজেও জানে না। তার Fiverr প্রফাইল চেক করে দেখি এত কষ্ট করার পরেও গত এক বছরে মাত্র ১৩টা সেল করতে পেরেছে। বুঝেন তার মার্কেটিং এর শক্তি
আসলে সে যেটা করছে সেটা হচ্ছে পিওর স্পামিং। সে স্পামিং এ এতটাই ব্যাস্ত ছিল যে তার টুইটার প্রফাইলে কোন ব্যানার দিতেই ভুলে গেছে
আমি তার দোষ দেব না। কিছু দেশি ইউটীউবার যারা Fiverr নিয়ে ভিডিও বানায় তারাই মূলত এর জন্য দায়ি।
তার নির্ভেজাল স্পামিং শেখায়। ফলে নতুন কেউ কোন মতে একটা Fiverr প্রফাইল খুলে, ইউতিউব সার্চ দিয়ে এই সব ভিডিও দেখে, এর পরে স্পমিং শুরু করে দেয়। এই রকম হাজার হাজার দেশি সেলার প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়াতে, নিজেদের সময় নস্ট করে প্রতিনিয়ত স্পামিং করে যাচ্ছে। কাজে কাজ কিছুই হয় না। ফাকে লাভ হাচ্ছে Fiverr এর। ফ্রিতে তাদের সাইটের পাবলিসিটি হচ্ছে
বাস্তবতা হচ্ছে ভাল কাজ জানলে এসব কিছুর দরকার হয় না। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে বেশ কয়েকজন টপ রেটেড সেলার আছেন, ভাল সেল করছেন এমন অনেক লেভেল-২ সেলার আছেন। কাউকে কখনো বলতে শুনিনি যে তাদের গিগ মারকেটীং করছেন। এসব করার সময় কোথায়। তারা তাদের কাজে এতটাই দক্ষ যে বায়ার তাদের হাত ছাড়া করে না। কাজ করেই শেষ করতে পারে না আবার গিগ মার্কেটিং।
আমি দেখেছি যারা একেবারে সাধারণ মানের কাজ করেন এবং নিজের কাজে দক্ষ না। তারাই মূলত সময় পায় গিগ মার্কেটিং করার। কারন তাদের করার মত কিছু নেই। ফলে বসে বসে স্পামিং করে। তাদের বলব এসব বাদ দিয়ে ভাল করে কাজ শেখেন, সময়কে কাজে লাগান, নিজেকে আপগ্রেড করেন। দক্ষ লোকের কাজের অভাব হয় না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি তাহলে মারকেটীং করার বিরোধী। মোটেও তাই না। আমি জেনুইন মারকেটীং করার পক্ষপাতী, আমি স্পামিং এর ঘোর বিরোধী!
বাস্তবতা হচ্ছে আমরা অধিকাংশই মার্কেটিং বুঝি না। আর যদি সত্যিই বুঝতাম তবে মার্কেটিং করেই অনেক ইনকাম করতে পারতাম অন্য কাজ না করলেও চলত
তাই যে জিনিস বুঝি না, সেটা আন্দাজে না করাই ভাল। আর যদি করতেই হয় তবে একটু ভাল পড়াশোনা করে এবং ভাল হয় মার্কেটিং এ অভিজ্ঞ কারো হেল্প নিয়ে, একটা প্রপার প্ল্যান নিয়ে মার্কেটিং এ নামা এবং এর জন্য কিছু বাজেট রাখা। আশা করা যায় ভাল রেজাল্ট আসবে।
আমার কিছু টিপসঃ
এতখন অনেক বকবক করলাম এখন কাজের কথায় আসি। শুরু করেছিলাম টুইটার দিয়ে। তাই টুইটার এর উপর কিছু টিপস দেই। আগেই বলেছি আমি মার্কেটার না। তার পরেও লিন্ডা আর ইউডেমির কিছু ভিডিও দেখে সেই ধারনা থেকে কিছু টিপস দিচ্ছি।
১. আপনার Twitter প্রফাইল প্রফেশনালি সাজান। কাজ রিলেটেড ভাল একটা ব্যানার দিন। ব্যানার বানাবার জন্য canva.com এর ফ্রি ভার্সন ইউজ করতে পারেন।
২. আপনার নিশ সিলেক্ট করেন। যেমন আপনি যদি ফটো ইডিটীং এর কাজ করেন তবে আপনি টার্গেট করবেন ফটোগ্রাফারদের। যদি বুক কভারের কাজ করেন তবে টার্গেট করবেন যারা কিন্ডেল বুক পাবলিশ করে। এভাবে আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী নিশ সিলেক্ট করেন। প্রফাইল সেই অনুযায়ী সাজান আর সেই ভাবে কাজ করেন।
৩. প্রতিদিন নিয়মিত আপানার নিশ রিলেটেড ৫০/১০০ জনকে ফলো করেন। যারা ফলো ব্যাক করবে না ০৭ দিনের মধ্যে তাদের আনফলো করে দিন। টারগেটেড ফলোয়ার বাড়ান।
৪. ভুলেও দেশি কাউকে ফলো করবে না। দেশি কেউ আপনাকে ফলো করলে ফলো ব্যাক করবেন না। কারন আর নাইবা বললাম!
৫. প্রতি ঘণ্টায় নিজের কাজ রিলেটেড একটা টুইট করতে পারেন। ছবি দিলে ভাল এঙ্গেজমেন্ট পাবেন। ছবি ডিজাইন করার জন্য canva.com ইউজ করতে পারেন। থার্ড পার্টি কিছু এপ্স ইউজ করে আপনি প্রতি ঘণ্টার শিডিউল পোষ্ট ঠিক করে দিতে পারেন। এতে আপনার সময় অনেক বেঁচে যাবে।
৬. ভাল ছবি বা পোস্ট রিটুইট করবেন এবং এর সাথে নিজে কোন লিঙ্ক দেবেন না। আপনি যে স্পামার না এটা প্রমানিত হবে। আপনার প্রফাইলের ভ্যালু বাড়বে!
৭. থার্ডপার্টি কিছু সফটওয়্যার ইউজ করে আপনি সহজেই আপনার ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন এবং সুন্দর ভাবে আপনার প্রফাইল মেইন্টেইন করতে পারবেন। এর জন্য বেস্ট হচ্ছে https://manageflitter.com আগে এর ফ্রি ভার্সন ইউজ করেন। ভাল লগলে মাত্র ১২ ডলার দিয়ে ১ মাসের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে ইউজ করে দেখেন, অনেক ভাল ফলাফল পাবেন। একেবার লেজার টারগেটেড বায়ার পাবেন। https://www.crowdfireapp.com/ অনেক ভাল। এটা দিয়ে টুইটারের পাশাপাশি অন্যান্য সোশ্যাল প্রফাইল মেইনটেইন করতে পারবেন। এটারও মান্থলি সাবসস্ক্রিপ্সন নিতে পারেন। অনেক ভাল পাবেন।
৮. খরচ করার মত ডলার না থাকলে https://tweetdeck.twitter.com/ এটা ফ্রিতে ইউজ করতে পারেন আপনার টুইটার প্রফাইল মেইন্টেইন করার জন্য। এটা টুইটারেরই নিজেদের প্রডাক্ট এবং একেবারেই ফ্রি।
৯. মার্কেটিং এ দক্ষ হতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। Lynda.com বা udemy.comএকটু ঘাটলেই অনেক ভাল ভাল টিউটোরিয়াল পাবেন। ফ্রিতে অনেক ভাল ভাল টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।
কয়েক ঘন্টা ব্যয় করে যা শিখবেন সেটা অমূল্য! কিন্তু আফসোস ৯৯% লকেরই সময় হবে না এসব করার
১০. সব শেষে বলতে চাই মার্কেটিং একটা চলমান প্রক্রিয়া। সময় নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে যদি অগ্রসর হন তবে অনেক ভাল করবেন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে আপনার সোশ্যাল প্রফাইল ভারি করতে থাকেন। নিয়মিত মার্কেটিং করতে থাকেন। এক সময় দেখবেন এই মারকেটীং করেই আপনার বায়ার পেয়ে যাচ্ছেন। তখন আর মার্কেটপ্লসের উপর ডিপেন্ড না করলেও চলবে। আমি এমন কয়েক জনকে পেয়েছি। আপনি যদি এমন কাউকে পান তবে অবশ্যই তার কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন।
সবাই ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ!

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। HTBB এর সাথে থাকুন সবসময়। ধন্যবাদ ☺